কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থের প্রভাব; জেনে নিন

লাইফস্টাইল

গড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের তিন ভাগের দুই ভাগই কাটে কর্মক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রের যেকোনো বিষয় নিয়ে মন খারাপ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ব্যক্তি জীবনে, পারিবারিক জীবনে, সামাজিক জীবনে, রাষ্ট্রীয় জীবনে—সব জায়গায় কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রভাব রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কর্মক্ষেত্রের উপর মানুষের ব্যক্তিজীবন অনেকাংশেই নির্ভরশীল, এমনকি দেশীয় অর্থনীতিও। দেশের উন্নয়ন কত হবে? এটিও নির্ভর করে কর্মক্ষেত্রের ওপর। মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি কখনোই মন দিয়ে কাজ করতে পারেন না। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন লোক বিষণ্ণতায় ভুগছেন। আর এই বিষণ্ণতার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কর্মক্ষেত্রের প্রভাব। মনোপযোগী কর্মপরিবেশ না থাকায় দিনের বাকি অংশ জুড়েও বিষণ্ণতা, অশান্তি, খারাপ লাগা কাজ করে।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ? এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলাম বলেন- “একটি কথা রয়েছে, হেলদি অ্যান্ড হ্যাপিয়ার মাইন্ড, কস হেলদি অ্যান্ড ইনক্রিস প্রোডাক্টিভিটি। মানে মনটা যদি ভালো থাকে, সুস্থ থাকে আপনি কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজ করতে পারবেন। আপনি যদি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকেন, আপনি কিন্তু কাজ করতে পারবেন না। শুধু মানসিকভাবে নয়, যেকোনো অসুস্থতাই না থাকলে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।”

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহিদ  কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রসঙে বলেন- “যদি কর্মক্ষেত্রে আমরা কোনোভাবে বিরক্ত থাকি, সে কারণে যদি আমাদের মনের মধ্যে কোনো বিষণ্ণতা বা অস্থিরতা থাকে, সেটা ব্যক্তির ওপরে যেমন প্রভাব ফেলে, পরিবারের ওপরও ফেলে। তখন দেখা যাচ্ছে, এটার ওপর প্রভাব পড়ছে। নারী হলে স্বামীর ওপর প্রভাব পড়ছে। পুরুষ হলে স্ত্রীর ওপর প্রভাব পড়ছে। পুরো পরিবারটার ওপরেই প্রভাব পড়ছে। কর্মক্ষেত্রে যেই মানসিক অসুস্থতা, সেটি পুরো পরিবারেই পড়ছে। সবকটা পরিবারেই যদি এমন অসুস্থ থাকে, তাহলে সমাজের চিত্রটা কী হচ্ছে? এভাবে কিন্তু রাষ্ট্রের ওপরও প্রভাব পড়ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.