টেলিফোনে অনীহা ছিল সুচিত্রা সেনের

বিনোদন

বাংলা ছবির সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। সুচিত্রা সেন মানে বাঙালির নস্টালজিয়া। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালীন পূর্ববঙ্গের পাবনায় জন্ম হয়েছিল তাঁর। তাঁর আসল নাম রমা দাশগুপ্ত। পরবর্তীতে সিনেমায় আসার পর রমা দাশগুপ্ত থেকে তিনি হয়ে যান সুচিত্রা সেন।

সুচিত্রা সেন ছিলেন অনেকটা নিভৃতচারী ধাঁচের। ব্যক্তিগত জীবনের সময়গুলোতে তিনি ব্যস্ত না থেকে একান্ত নিজের মতো করেই থাকতে চাইতেন। আর সে কারনেই হয়তো টেলিফোনে বরাবরই অনীহা ছিল তাঁর।

সুচিত্রা সেন কখনো টেলিফোন ধরতে চাইতেন না। একবারে কেউ হাতের কাছে না থাকলে, রিসিভার তুলে নিজের সহজাত কণ্ঠকে কিছুটা বিকৃত করে জবাব দিতেন। খুব আপন কেউ না হলে নিজেই বলে দিতেন, উনি একটু বেরিয়েছেন অথবা ঘুমিয়ে আছেন, পরে কথা বলবেন। কেউ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলতেন, ‘কত কথা বলব বল? দিন রাত মিলে অন্তত একশ ফোন আসবে, এক মিনিট করে কথা বললেও একশ মিনিট কথা বলতে হবে’।

১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়, কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৫৩ সালে নির্মল দে পরিচালিত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে তিনি অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য লাভ করে। এরপর থেকেই জনপ্রিয় হতে শুরু করে উত্তম-সুচিত্রা জুটি। বাংলা ছবির এই চিরস্মরনীয় জুটি পরবর্তী ২০ বছর ছিলেন আইকন স্বরূপ।

সুচিত্রা সেন’ই প্রথম বাঙালি অভিনেত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে ৩য় মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রটিতে তাঁর নিপুণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.