হারিয়ে যাচ্ছে বাঘ-ছাগল খেলা

অন্যান্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য খেলা

গ্রামবাংলার আনাচে কানাচে প্রচলিত আছে নানারকম খেলাধুলা, যা আমাদের বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে যুগ যুগ ধরে লালন করে আসছে। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে এর অধিকাংশই ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

ইচিং বিচিং, কুতকুত, গোল্লাছুটের মতোই গ্রামবাংলার একটি জনপ্রিয় খেলার নাম বাঘ-ছাগল খেলা। গ্রামের শিশু-কিশোরদের মাঝে জনপ্রিয় এই খেলা সাধারণত ছেলে ও মেয়ে উভয়ই খেলে থাকে। বহুল প্রচলিত এই খেলাটি স্থানবিশেষে নাম পরিবর্তিত হয়ে অনেক জায়গায় অ্যাঙ্গা অ্যাঙ্গা খেলা নামেও সুপরিচিত।

বাঘ-ছাগল খেলার নিয়মঃ

বাঘ ছাগল খেলায় প্রথমে একজনকে বাঘ নির্বাচন করা হয়। তারপর মাটিতে দাগ কেটে একটি গোল বৃত্ত তৈরী করা হয়। এরপর বাকী খেলোয়াড়রা ছাগল হিসেবে বৃত্তের ভেতর অবস্থান নেয়। বাঘের কাজ হল বৃত্তের বাইরে থেকে বৃত্তের ভেতর আক্রমণ করা এবং একটি ছাগল ছিনিয়ে নেয়া। বাঘ, ছাগলদলকে আক্রমণ করার সময় বিভিন্ন রকম কৌশল অবলম্বন করে। এসময় বাঘ কোন ছাগলকে আক্রমণ করলে ছাগলদলের অন্য সদস্যরা তাকে টেনে ধরে রাখে। এভাবেই খেলা শুরু হয় দুই পক্ষের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে। বাঘ প্রথমে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে- অ্যাঙ্গা, অ্যাঙ্গা। এরপর ছাগলরা সমস্বরে বলে- কান্দো ক্যান?

বাঘঃ অ্যাঙ্গা, অ্যাঙ্গা।
ছাগদলঃ কান্দো ক্যান?
বাঘঃ গরু হারাইছে
ছাগদলঃ কি গরু?
বাঘঃ নাঙ্গা গরু।
ছাগদলঃ শিঙ্গি কী?
বাঘঃ কুষ্টার আঁশ।
ছাগদলঃ একটা গান গাও, শুনি
বাঘঃ এতি চোর, বেতি চোর
চলে আয় আমার স্যায়না চোর।

কথোপকথনের মাঝেই বাঘ ছাগদলকে আক্রমণ করে। এভাবে বাঘ সুকৌশলে ছাগলদলের একজন একজন করে নিয়ে তার দল ভারী করে। শেষ পর্যন্ত যে ছাগল বৃত্তের ভেতরে টিকে থাকতে পারে, সে পরবর্তী বাঘ নির্বাচিত হয়। এভাবেই চলতে থাকে শিশুদের মজার এই খেলা।

বাংলাদেশের খেলা বলতে বাংলায় প্রচলিত খেলাধুলাকে বোঝায়। বাঘ-ছাগলের খেলার মতো অনেক মজার মজার খেলা আমাদের গ্রামবাংলায় প্রচলিত আছে। শিশু-কিশোরদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশ সাধনে এসব খেলাধুলার বিকল্প নেই।
এসব খেলার চর্চা আমাদের নিজস্বতার জায়গাটিকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে পারে, সেইসাথে বাঁচাতে পারে বিলুপ্তির হাত থেকেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.