বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ তম জন্মবার্ষিকী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। বাংলা সাহিত্যে তাঁর সৃষ্টি, মহত্ব, অবদান বাংলা সাহিত্যকে ধন্য করেছে। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

তিনি বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা গ্রহণ করেননি। গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তাঁর লিখা প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মাত্র সতেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান। ২২ বছর বয়সে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়।১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। এর এক বছর পর মৃণালিনী দেরীর মৃত্যু হয়। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।

১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। এর চার বছর পর তিনি  জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সেই উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রামোন্নয়নের জন্য শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি তাঁর দীর্ঘজীবনে বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ রোগভোগের পর বাংলা ১৩৪৮ সালের বাইশে শ্রাবণ (ইংরেজী ৭ আগস্ট-১৯৪১) কলকাতায় পৈত্রিক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

বাঙালির এই কবি এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন রাষ্ট্র ছিল পরাধীন, চিন্তা ছিল প্রথাগত ও অনগ্রসর, বাংলাভাষা ছিল অপরিণত। রবীন্দ্রনাথ একাধারে এই ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বমানে উন্নীত করার পাশাপাশি জাতির চিন্তা জগতে আধুনিকতার উন্মেষ ঘটিয়েছেন। বাঙালির প্রতিটি সংগ্রামেই কবির চিরায়ত রচনাসমগ্র আজীবন স্মরণের শীর্ষতায় আবিষ্ট হয়ে আছে।

সকল ক্ষেত্রেই স্পষ্ট উচ্চারন বারবার ধ্বনিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের অসংখ্য সৃষ্টি কর্মে। সত্য, সুন্দর আর প্রেমের সাধনা হয়ে ওঠে তার সমগ্র কাব্য সাহিত্যের প্রয়াস। আধুনিকতা আর উৎকর্ষকতায় মানুষ অনেক বেশি যান্ত্রিক হলেও আবেগ অনুভুতি প্রকাশে এখনো ফিরে আসতেই হয় রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি সম্ভারে।

পঁচিশে বৈশাখ দিবসটি উপযাপনের লক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্থার পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্বকবির জন্মবাষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাংলা একাডেমিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আজ বিকেলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে একক বক্তৃতা, রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পঁচিশে বৈশাখ সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্য শালায় কবিগুরুর ওপর আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

বেসরকারি টিভি চ্যানেল-আই দিনব্যাপী রবীন্দ্র মেলার আয়োজন করেছে। সকাল নয়টা থেকে বিকেল পর্যন্ত নানা কর্মসূচি পালন করা হয় তেজগাঁয় চ্যানেল-আই কার্যালয় প্রাঙ্গণে।

এছাড়া জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শুধু দুই বাংলার বাঙালিরাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাভাষীরা কবির জন্মবার্ষিকীর দিবসটি পালন করছে হৃদয় উৎসারিত আবেগ ও শ্রদ্ধায়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *