রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এইডস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে

বিবিধ

রোহিঙ্গাদের কারণে এইডস-ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। গত মে মাস পর্যন্ত এইডস রোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। এসব রোগী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে অবাধ চলাফেরা করায় এইডস ছড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শুধু কক্সবাজার নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এইডস ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম মিয়ানমার। মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হাজারে আটজনই এইডস রোগে আক্রান্ত।

ইউএনএইডসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে জনসংখ্যা ৫ কোটি ২০ লাখ। এর মধ্যে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী মানুষ ২ লাখ ৩০ হাজার। আর দেশটির এইচআইভি বহনকারীর সংখ্যা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ ৷

অন্যদিকে, বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। এর মধ্যে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে ৪ হাজার ৭২১ জনকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে তারা এইডসে সংক্রমিত এ পর্যন্ত ২৪০ জন রোগীকে নিবন্ধিত করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে তাদের জানা নেই। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইডস রোগীর সংখ্যা ছয় হাজারের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক সামিউল ইসলাম বলেন, এইডস যেন আরও না ছড়ায়, সে জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে এইডসে আক্রান্ত কেউ যৌনকর্মী হিসেবে ওই পেশায় ঢুকে গেলে বিষয়টি আরও ভয়াবহ হবে। এইডস রোগীরা কেউ যেন অসামাজিক ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

এদিকে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের অবস্থানের ফলে স্থানীয় এলাকার ক্ষয়ক্ষতি ও তার প্রভাব সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২ হাজার ৬৪৫ জন যৌনবাহিত, ৩ লাখ ৬ হাজার ৫৬৬ জন ম্যালেরিয়া, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮২ জন ডায়রিয়া রোগাক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭৬ ও এইচআইভি পজিটিভ সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ১১২।

Leave a Reply

Your email address will not be published.