“কার ফ্রী সিটি’স এলায়েন্স” এর আত্মপ্রকাশ

যান্ত্রিক যানের আধিক্যের কারণে বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, সময় অপচয়, খেলার জায়গা সংকট এবং সড়ক দূর্ঘটনার পরিমান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাড়িমুক্ত শহর গড়ে তুললে আমাদের নিরাপদে সব জায়গায় যাতায়াত সম্ভব হবে। মূল্যবান সময়টুকু আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারব। যান্ত্রিকযান মুক্ত শহর গড়ে তুলতে পারলে শহরে পর্যাপ্ত উন্মূক্ত স্থান ও গণপরিসরের ব্যবস্থা করা যাবে। যেখানে সামাজিকীকরণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। শিশুরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে খেলাধূলা করতে পারবে।

আজ ২৮ জুলাই ২০১৮, শনিবার, সকাল ১১.০০টায় কার ফ্রী সিটি’স এলায়েন্স বাংলাদেশ এর আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে আবাহনী মাঠের সামনে (পশ্চিম পাশ্বে, ধানমন্ডি, সাত মসজিদ রোড, ঢাকা) আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এই অভিমত ব্যাক্ত করেন।

“সময় বাঁচাই, দূষণ কমাই ব্যাক্তিগত যান্ত্রিক যান পরিহার করি, যানজট মুক্ত দেশ গড়ি” এই স্লোগান সামনে রেখে কার  ফ্রী  সিটি’স এলায়েন্স  বাংলাদেশ  এর  উদ্বোধন  উপলক্ষ্যে ঢাকার  ৩টি  (মিরপুর  ১০,  ঢাকা মেডিকেল মূল  ফটকের  পাশে, ঢাকা  ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসিটির সামনে, বনানী) স্থানসহ ৮ টি বিভাগীয় শহরে একযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ধানমন্ডি, সাত মসজিদ রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আ ন ম মাসুম বিল্লাহ ভূইয়া, পলিসি অফিসার আইডাব্লিউবি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ নাহিদ খান, প্রশিক্ষক, কার ফ্রী সিটি’স এলায়েন্স বাংলাদেশ। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন সৈয়দা দিলরুবা আক্তার, পরিচালক, বিসিএইচআরডি, রাখিল খন্দকার নিশান, সভাপতি, ড্রিম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।

মোঃ নাহিদ  খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রতিদিনের চাহিদার বিশেষ অংশ হয়ে দাড়িয়েছে যানজট মুক্ত শহরে চলাচলের সুযোগ। আমরা যানজটের নষ্ট হওয়া সময় কাজে লাগাতে চাই। আমরা দূষণ মুক্ত শহর চাই, চাই যান্ত্রিক মুক্ত শহর।

সভাপতির বক্তব্যে আ ন ম মাসুম বিল্লাহ ভূইয়া বলেন, অযান্ত্রিক যানকে প্রাধান্য দিয়ে শহরের অবকাঠামোর উন্নয়ন সম্ভব। যান্ত্রিকযান মুক্ত শহর গড়ার লক্ষ্যে একজোট হয়ে কাজ করেতে হবে। যান্ত্রিক যানবাহন থেকে নির্গিত ধোয়া আমাদের পরিবেশে কার্বণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এখন আমাদের চুপ থাকলে হবে না। গাড়িমুক্ত শহর আমাদের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে অনেকগুলি ধাপ পার হতে হবে। আমরা যদি পরিকল্পতভাবে এগিয়ে যাই তাহলে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবো।

ড্রিম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাখিল খন্দকার নিশান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ঢাকার শহরে যানজটের অবস্থা খুবই ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। যার কারনে আমাদের দৈনন্দিন জীবন দূর্বিষহ হয়ে পরেছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের গাড়িমুক্ত শহর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।

কারফ্রি সিটি’স এলায়েন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা শান্তনু বিশ্বাস বলেন, নগর যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জায়গা, জ্বালানী ও দূষণ এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। নগর যাতায়াত পরিকল্পনা মানে শুধু অনেক অর্থ দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা নয়। এজন্য  বিশ্বের অনেক শহরে নগর পরিকল্পনায় হাঁটা এবং অযান্ত্রিক যানকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।  যদি পথচারীবন্ধব ফুটপাত এবং বাই সাইকেলের জন্য ব্যবস্থা করা হয়, তবে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *