সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা গেছেন। স্বজনেরা জানান, আজ সকালে বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সোয়া নয়টার দিকে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুআইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে তাঁর স্বজন, সহশিল্পী, সহকর্মী ও ভক্তদেরদরে মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। নব্বইয়ের দশক থেকে ব্যান্ড সংগীতের চর্চা শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। প্রায় তিন যুগের সংগীতজীবনে আইয়ুব বাচ্চু গানের পাশাপাশি তাঁর গিটারের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।

বাচ্চুর সঙ্গীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ আইয়ুুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। ১৯৯১ সালে বাচ্চু এল আর বি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এল আর বি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তাঁর একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।এটিকে সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত করা হয়। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়।

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুনভাবে অনুপ্রাণিত। ২০১০ সালে ঈদের জন্য নির্মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ও হলুদ বাতি শিরোনামের নাটকে অভিনয় করেন।

গত ১৬ আগস্ট শেষ জন্মদিন পালন করেন ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু। এদিন তিনি বলেছিলেন, ‘এমন কিছু গান করতে চাই, যা আগে কখনো করিনি। এই গানগুলো নিজে লিখব, সুর করব ও গাইব।’

রূপালী গিটার তাঁর হাতে আর কোনোদিন খেলা করবে না। ভক্তদের অন্তরে আঘাত করবে না ‘ছয় তারের’ ঝংকার। রূপালী গিটারে হাত পড়বে না জাদুকরের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *