প্রথমবারের মতো পৃথিবীতে তেলের দাম কমে গিয়ে শূন্যের নীচে

বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তেলের দাম পানির দামের চেয়েও কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এক গ্লাস পানির মূল্য দুই টাকা হলেও তেলের দাম শূন্যেরও নিচে নেমে এসেছে। সোমবার আমেরিকায় অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে কমতে শূন্যেরও নীচে নেমে যায়। ওই দিন এক ব্যারেল (প্রায় ১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে মাইনাস ৩৭.৬৩ ডলারে।

এক মাস পর তেলের দাম কত হবে তা স্থির করে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার্স ডব্লিউটিআই ফিউচার্স। অর্থাৎ মে মাসে তেলের দাম কত হবে তা স্থির হবে এপ্রিলে। মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে এর মেয়াদ। যদিও ডব্লিউটিআই ফিউচার্সে জুন মাসে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ২০.৪৩ ডলার ও জুলাই মাসে ২৬.১৮ ডলার ধরা হয়েছে।

তেল ব্যবসায়ীদের জন্য সোমবারের দিনটি ছিল সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক! কারণ মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই আবারও শূন্যের ওপর (১ দশমিক ১০ ডলার) উঠে এসেছে তেলের দাম।

বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মোয়া বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট তেলের চাহিদা বিপর্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চালুর গতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে ধীর হবে।

করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে লকডাউনের মধ্যে বিশ্বের বহু দেশের মানুষ এখন ঘরবন্দি থাকায় রাস্তাঘাট সব ফাঁকা, উড়োজাহাজগুলো বসে আছে, কারখানাগুলোও অন্ধকার। একারণে গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৩০ শতাংশ কমেছে। এর ফলে প্রতিদিনই কোটি কোটি ব্যারেল তেল গুদামে জমছে, অদূর ভবিষ্যতে তেল রাখার কোনো জায়গা থাকবে না।

মে মাসের আগেই গুদাম, শোধনাগার, টার্মিনাল, জাহাজ, পাইপলাইন- সবগুলোর ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কার কথা বিবিসির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দরে ঐতিহাসিক পতনের পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব থেকে তেল আমদানি আপাতত বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথা জানান।

এমন পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সমিতি অ্যাপেক ও রাশিয়াসহ এর মিত্ররা দিনে ৯৭ লাখ ব্যারেল করে তেলের উৎপাদন কমাতে রাজি হয়েছে। তবে সেটা মে মাসের আগে হচ্ছে না এবং যে পরিমাণ উৎপাদন কমবে তা বাজারে ভারসাম্য আনার জন্য যথেষ্ট না।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *