শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক–সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ–এর মুখপাত্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তিনি জুলাই শহিদদের অধিকার, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার জন্য আলোচনায় আসেন।
১৯৯৩ সালের ৩০ জুন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন হাদি। প্রাথমিক শিক্ষা মাদ্রাসায় সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করে তিনি জাতীয় সরকার গঠন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য এবং সার্বভৌমত্বভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবি তোলেন। ২০২৫ সালে তিনি ঢাকা–৮ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, যা নাগরিক সমাজে নতুন ধরনের রাজনীতির উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।
হাদি সাহিত্যচর্চায়ও যুক্ত ছিলেন। ‘সীমান্ত শরিফ’ ছদ্মনামে প্রকাশিত তার কাব্যগ্রন্থ লাভায় লালশাক পুবের আকাশ পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং এক পুত্র সন্তানের পিতা।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হন হাদি। সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং বহু মানুষের কাছে তিনি “সার্বভৌমত্ব ও প্রতিবাদের প্রতীক” হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকেন।


